সংক্ষিপ্ত বিবরণ :
১৯৪৬-এর হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গার কথাও যেমন সত্য, তেমনি ওই সময়ে দক্ষিণ এশিয়ায় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ‘আজাদ হিন্দ ফৌজ’-এর জয়যাত্রা এবং করাচিতে নৌ-সেনা বিদ্রোহ ভারতে ইংরেজদের জন্য শেষঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছিল, তা-ও সত্য। কিন্তু তাই বলে কী সোনার ডিম পাড়া একটা তাজা হাঁস হাসিমুখে ছেড়ে দিয়ে যাবে ইংরেজ? সব মহলেই সংশয় গভীরতর হচ্ছিল। তবে শেষ নষ্টামি করার জন্য ইংরেজকে বড় কোনো গবেষণা কিংবা কসরত করতে হলো না; ভারতবাসীরাই তাদের হাতে হিন্দু-মুসলিম অনৈক্যের লোভনীয় ক্যাচটি তুলে দিল। উপমহাদেশের এই প্রধান দুই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের কতিপয় নেতা একসঙ্গে থাকতে রাজি হলেন না। হিন্দুস্তান থেকে কিছু ভূমি ভাগ করে তৈরি হলো পাকিস্তান। যশোর, খুলনা, কুমিল্লাসহ অনেক হিন্দুপ্রধান জায়গা পূর্ব পাকিস্তানে ঢুকে গেল; মুর্শিদাবাদ, মালদহসহ অনেক মুসলিম প্রধান জায়গা ঢুকে গেল ভারতে। হিন্দু-মুসলমান নামের বাঙালির সেই লড়াই আজও অব্যাহত সংখ্যালঘু পরিচয়ে। পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘু মুসলিমরা আর পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুরা। বাঙালি জাতিকে এভাবেই সংখ্যালঘু করে দিতে পেরেছিল ইংরেজ। এটাই সম্ভবত তাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল ১৯৪৭-এ। ইতিমধ্যেই হিন্দুর দেশত্যাগের ইতিহাস রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ ভবিষ্যতে হিন্দুশূন্য বাংলাদেশ হয়ে যাওয়ার পথেই এগিয়ে যাচ্ছে।



