আমাদের যৌবনের সময় অনেক অশান্ত পৃথিবীর গল্প শুনতাম। পৃথিবীতে অশান্তির ঘটনার অভাব ছিল না তখন। কারো কাছে ছিল তা মুক্তিযুদ্ধ, কারো কাছে সন্ত্রাসী কর্মকা-। এরও আগে পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালিদের মুক্তিযুদ্ধের বিনিময়ে বাংলাদেশ পেয়েছিলাম। চলেছে সেসময়ে আফ্রিকায় পর্তুগিজ উপনিবেশের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ, মোজাম্বিক আর অ্যাঙ্গোলায় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ, দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবিদ্বেষী শ্বেতাঙ্গ শাসনের বিরুদ্ধে কালো মানুষের অসহযোগ আন্দোলন; চলেছে বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক শক্তি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে রোমাঞ্চকর ভিয়েতনামের গেরিলা যুদ্ধ। এসব একদিন শেষও হয়েছে। কেননা সভ্যতা লজ্জা পেয়েছে, সভ্যতা তার প্রাকৃতিক রূপ ধরেই মানুষকে সভ্য হতে শিখিয়েছে। মানুষ ঘুরে দাঁড়িয়েছে নতুন করে, তার আচরণে এসেছে সভ্যতার কঠিন চাবুকের শিক্ষা। তারপর বয়ে গেছে অনেকগুলো সময়।
আজ ৩০ বছর পরও ফিলিস্তিন অথরিটি প্রতিষ্ঠিত হলেও কোনো স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠিত হতে পারেনি। ফিলিস্তিনে অবস্থিত হলেও পশ্চিম ও পূর্ব উভয় অংশের জেরুজালেমই ইসরায়েলের দখলে। জাতিসংঘের একাধিক মঞ্চে বেআইনি ঘোষণা করা সত্ত্বেও ইহুদি অভিবাসন এখানে ঘটেই যাচ্ছে।
যুদ্ধের পরিস্থিতি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, সরে যাওয়াটাও বেশ কঠিন। লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রাণভয়ে ছুটছে। গাড়িতে জায়গা নেই; খাবার, পানি, বিদ্যুৎ কিছুই নেই। কখনও ইউক্রেন, আবার কখনও গাজা-ইসরায়েল। সাধারণ মানুষগুলো যুদ্ধে নামেনি। হামাস বা ইসরায়েলের হয়ে প্রচারও করেনি। তবু তারাই রয়েছে মৃত্যুর অপেক্ষায়। সাধারণ মানুষের জন্য যেকোনো যুদ্ধের এটাই ফলাফল- ‘হয় বন্দুকের গুলিতে মর, আর তা না-হলে না-খেয়ে মর’।
যুদ্ধ প্রথমেই মেরে ফেলে সত্যকে; তারপর মানবিকতা আর অর্থনীতিকে। যুদ্ধের আগুন যত বাড়তে থাকে, মানুষের দুর্ভোগ ততই বাড়তে থাকে। একটি যুদ্ধ সেই যুদ্ধরত জাতি এবং অঞ্চলকে ধাক্কা দিয়ে বছরের পর বছর পিছিয়ে দেয়। এতকিছুর জন্য সভ্যতা দায় নেবে না, সভ্যতা লজ্জা পাবে না- তা কী করে হয়! ধিক সেই সভ্যতাকে, যা মানুষকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেয় না। ধিক সেই সভ্যতার, যার হাত ধরে শিশু-নারী অসহায় পৃথিবীতে একা হয়ে যায়। তাই হে সভ্যতা- তোমাকেই বলছি, তোমাকেই দায়ী করছি। বর্তমান সময়ের এ সভ্যতা এবং বাংলাদেশের মানুষের ওপর এর প্রভাব এবং ক্ষতিকর দিক নিয়ে মোট ২২টি প্রবন্ধ নিয়ে সাজানো হয়েছে বইটি।