৩০ নভেম্বর ২০২৫

সুফিবাদের বাউলরা দেশের নাগরিক তো?

পশ্চিমা বিশ্বের একটি বিজ্ঞাপনের গল্প দিয়ে শুরু করি। একবার একটি সফট ড্রিংকস সংস্থা পশ্চিমা দেশগুলোতে বিশেষ ধরনের বিজ্ঞাপনী প্রচার চালায়। ছবি ও কার্টুন দেওয়া ওই পোস্টারে দেখা যায়, এক ব্যক্তি তীব্র রোদে ক্লান্ত হয়ে মরুভূমিতে শুয়ে আছে। পরের ছবি, একটি কার্টুন ওই সফট ড্রিংকটি পান করছে। তৃতীয় ছবিতে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি দৌড়াচ্ছে। বিজ্ঞাপনের বক্তব্য ছিল, সফট ড্রিংকটি পান করলে ক্লান্তি ভুলে দৌড়াতে শুরু করে। তুমুল হিট হয় বিজ্ঞাপনটি। বিক্রি বেড়ে যায় কোম্পানির। কোম্পানি এবার বিশ্বের অন্যত্রও একই বিজ্ঞাপন প্রচার করার সিদ্ধান্ত নেয়। আন্তর্জাতিক প্রথম বিজ্ঞাপন আরব দুনিয়ায়। কিন্তু আরবে বিজ্ঞাপনটি সুপার ফ্লপ করে।

২৩ নভেম্বর ২০২৫

দেশ ১৮০ ডিগ্রি পেছনে যাচ্ছে

দেশের ইসলামপন্থী সংগঠনগুলোর সরকারি স্কুলে গান ও নাচের শিক্ষক (মিউজিক টিচার) নিয়োগের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ফলে ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গান-নাচের শিক্ষকের পদ বাতিল করে দিয়েছে। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রধান সৈয়দ ফয়জুল করিমের সুস্পষ্ট হুঁশিয়ারি ‘কোনো অবস্থাতেই গানের শিক্ষক নিয়োগ করা যাবে না’ শুনেই সরকার বাহাদুর সুর-সুর করে গান-নাচের শিক্ষকের পদ বাতিল করে দেয়। তবে এটাও মন্দের ভালো; কেননা, অন্তর্বর্তী সরকার অন্তত হীরক রাজার শিক্ষামন্ত্রীর মতো ‘আজ থেকে পাঠশালা বন্ধ’ এমন একটি আদেশ জারি করেনি। ময়মনসিংহে ১৩ নভেম্বর যাত্রার এক নারী নৃত্যশিল্পীকে প্রকাশ্যে মারধর করে চুল কেটে মুখে কালি মাখিয়ে দিয়ে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে দুর্বত্তরা।

ভোরের কাগজ- ২৩ নভেম্বর ২০২৫

১৭ নভেম্বর ২০২৫

মামদানি- মঙ্গলবারের অক্সিজেনের নাম

নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়র নির্বাচনে শোচনীয়ভাবে হার হয়েছে কর্তৃত্ববাদী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। জয় হয়েছে মামদানি নামের ৩৪ বছরের দক্ষিণ এশিয় ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক মুসলিম সোশ্যালিস্ট অভিবাসীর। নির্বাচনে ট্রাম্পের মনোনীত রিপাবলিকান হেভিওয়েট প্রার্থী স্লিওয়া ভোট পেয়েছেন ১০ শতাংশেরও কম। ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই ঐতিহাসিক মঙ্গলবারটি (৪ নভেম্বর ২০২৫) সম্ভবত কোনোদিনই ভুলতে পারবেন না। মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে মেয়র পদে জোহরান মামদানি জিতলেন; ভার্জিনিয়া এবং নিউ জার্সির গভর্নর পদে জিতলেন দুই মহিলা ডেমোক্র্যাট অ্যাবিগেল স্প্যানবার্গার এবং মিকি শেরিল; ভার্জিনিয়ার লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে জিতলেন আর একজন দক্ষিণ এশিয় তথা ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম গাজালা হাশমি। একই মঙ্গলবারে পেনসিলভেনিয়ার স্টেট সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচন ছিল। সেখানে তিনজন ডেমোক্র্যাট নির্বাচিত বিচারপতি তাদের আসন ধরে রাখলেন। মঙ্গলবার ট্রাম্পকে বুঝিয়ে দিয়ে গেল, আমেরিকার মাটি তার জন্য ক্রমশই শক্ত হয়ে যাচ্ছে। মামদানি, নিউ জার্সি, ভার্জিনিয়া বা ক্যালোফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের প্রচারের ভিন্নতার মাঝেও অভিন্ন সুর ছিল দুটি- ট্রাম্পের বিরোধিতা আর জনতার পক্ষে সাশ্রয়ী নীতির ওপর জোর।

০৯ নভেম্বর ২০২৫

দৈত্যের নতুন প্রভু আন্দোলনে পাকা হলেও রাজনীতিতে একেবারেই কাঁচা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলন। দুটো ধাপে তাদের কাজ বিভক্ত। প্রথম ধাপ বিগত সরকারের পতন পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় ধাপের শুরু ৫ আগস্টের পর থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত। প্রথম ধাপে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের সমন্বয়কসহ সব আন্দোলনকারীরা চমৎকার একটি সময় পার করেছে। রক্ত দিয়েছে, পাশে রক্ত ঝরছে তা দেখেছে, লাশের ওপর দিয়ে হেঁটে গিয়েছে; কিন্তু তারপরও সামনে এগিয়ে গিয়েছে। বুক চেতিয়ে ধরেছে, কিন্তু কখনও লেজ গুটিয়ে রণভূমি থেকে পালিয়ে যায়নি। এমন একটি সফল কার্যকারিতার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর গুলি না করার ভূমিকা এবং জনবান্ধব অবস্থান আন্দোলনকারীদের আরও সাহস জুগিয়েছিল; তা হয়ে দাঁড়িয়েছিল তাদের আন্দোলনের সহায়ক শক্তি। তবে সবচেয়ে বেশি সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করেছে পতিত সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা এবং তার ভুল রাজনীতি। কোটা আন্দোলন হচ্ছিল শান্তিপূর্ণভাবেই। সরকার ধীরে যাচ্ছিল; আন্দোলনও ধীরগতিতে হাঁটি-হাঁটি পা-পা করে চলছিল। সরকার বুদ্ধিমান হলে আলোচনার ডাক দিয়ে আন্দোলনের গতি সীমিত করতে পারত। সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা বাস্তব জ্ঞানসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে পারলে আন্দোলনের গতি বেগবান হতে পারত না। তেমন প্রস্তুতি তাদের তখনও ছিল না। সরকার আন্দোলনকারী ছাত্রদের সঙ্গে রাজনৈতিক খেলার ভুল চাল দিয়েছিল। আন্দোলনকারীর কয়েকজন ছাত্রকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল ডিবি পুলিশ। আন্দোলন দমনের রাজনৈতিক পথ বন্ধ করে পুলিশি পথ বেছে নিয়েছিলেন সাবেক সরকারপ্রধান। তাতে আন্দোলন আরও বেগবান হয়েছিল। ভুল বুঝতে পেরে সরকার আবার রাজনৈতিক পথে হাঁটার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সঠিক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা দিয়ে আলোচনার টেবিলে না বসিয়ে টালবাহানা করার রাস্তা বেছে নিয়েছিল সরকার। সরকারপ্রধান একদিন আলোচনায় বসেই যে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ পরিসমাপ্তি ঘটাতে পারতেন, ভুল পথে গিয়ে এবং বিতর্কিত কিছু বক্তব্য দিয়ে আন্দোলনকেই বরং চাঙ্গা করে দিয়েছিলেন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা।

০২ নভেম্বর ২০২৫

প্রধান উপদেষ্টার বিদেশ সফর বনাম জান্নাত-আলেয়াদের জীবনযুদ্ধ

পোশাক কারখানায় চাকরি করত ময়মনসিংহের মেয়ে জান্নাত। ঠাকুরগাঁওয়ের ছেলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। প্রথম সন্তান মেয়ে। তারপর একসঙ্গে আরও তিনটি সন্তান জন্ম নিলে স্বামী তাকে ত্যাগ করে চলে যায়। জান্নাতের অন্ধকার সময়ের সেই শুরু। সন্তানদের একা রেখে কাজে যেতে পারে না জান্নাত। আবার সন্তানদের মুখে অন্ন জুটানোর দায়িত্বও তারই। তাই জান্নাতের নতুন সংগ্রাম। লোহার খাঁচার গাড়িতে এক-বছর বয়সী তিন সন্তান। তাদের নিয়ে পথে পথে ঘুরছে মা; লোকের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে পেটের ক্ষুধা মেটানোর চেষ্টা করছে জান্নাত। মায়ের পেছনে খাঁচা গাড়িটি ধরে ধরে চলেছে চার বছরের মেয়ে। ঠাকুরগাঁওয়ের জান্নাত বেগমের এ লড়াইয়ের গল্প সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সবদিক থেকে সান্তনার বাণী ঝরে পড়ে। কিন্তু জান্নাতের এই নতুন পেশার অনুশীলন চলতেই থাকে। জান্নাত ভিক্ষা করতে লজ্জা পায়, কিন্তু চারটি ছোট বাচ্চা নিয়ে তার সামনে ভিক্ষাবৃত্তি ছাড়া অন্য কোনো পথই খোলা থাকে না। লাখ টাকায় সন্তানদের বিক্রির প্রস্তাবও আসে; কিন্তু সন্তানের মায়ার কাছে হার মানে টাকার প্রলোভন। প্রায় একই রকমের গল্প শরিয়তগঞ্জের আলেয়া বিবির। মুড়ি ভেজে দিনমজুর স্বামীর পাশে থেকে সংসারের অভাব পূরণের চেষ্টা করত। কিন্তু তবুও সংসারে নিত্য টানাটানি। দুই ছেলের মুখে ঠিকমতো ভাত তুলে দিতে পারে না। ধার-দেনা করে এবং শ্বশুরের নামের শেষ সম্বল জমিটুকু বিক্রি করে আলেয়া বিবি একদিন দেশ ছেড়ে পাড়ি জমায় কাতার নামের দূরদেশে সাফাইকর্মীর কাজ নিয়ে। সন্তানদের মুখে ভাত জুটানো আর লেখাপড়া শেখানোর যেন দায়িত্ব তারই ঘাড়ে। এসব মায়েদের দশ হাত নেই- দুটি হাতেই প্রাণপণে আগলে রাখে সন্তানদের।

ভোরের কাগজ- ৩০ অক্টোবর ২০২৫

২৬ অক্টোবর ২০২৫

কোন পথে জেন-জির দুঃসাহসী গর্জন

নাম ঈশিত ভাট- ক্লাস ফাইভ। দশ বছরের খুদে শিশু। এসেছিল সদ্য ৮৩ বছরে পা-রাখা ভারতের অমিতাভ বচ্চনের বিখ্যাত ‘গেম শো’-তে। শো-র শুরু থেকেই বালকের ব্যবহারে চ্যালেঞ্জের বেপরোয়া ভঙ্গি। যেন সে জানেই না, তার উল্টো দিকের চেয়ারে বসে আছেন স্বয়ং অমিতাভ বচ্চন। অমিতাভ বুঝাতে যাচ্ছিলেন গেমের পদ্ধতি। বালকটি বলল- ‘ওসব আমার জানা; আপনি সরাসরি প্রশ্ন করুন।’ বেশ কয়েকবার প্রশ্নের ক্ষেত্রে অমিতাভ উত্তরের অপশন বলার আগেই বালকটি তাঁকে থামিয়ে বলে- ‘এবার লক করে দিন।’ সেই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সেদিন সারা ভারত কাঁপিয়ে দিয়েছিল দশ বছরের ওই বালক তার ঔদ্ধত্যে। মনে হয়েছিল, বালকটি জানেই না- কে অমিতাভ বচ্চন; তাঁর সঙ্গে কথা বলতে কতখানি সুভদ্র এবং শ্রদ্ধাবান হওয়া উচিত। ঈশিত ভাট জেন-জি প্রজন্মের নিটোল বিশুদ্ধ নিদর্শন। ১০ থেকে ২৭ বছর বয়সী জেন-জিদের বড় হয়ে ওঠা ট্যাবলেটস, স্মার্টফোন, এআইয়ের সঙ্গে। তাদের বেশিরভাগ সময় কাটে অনলাইনে, মোবাইল স্ক্রিনের সামনে। তারা স্বচ্ছন্দ অনলাইন কমিউনিকেশনে। তাদের সামাজিক ব্যবহারে প্রত্যাশিত নম্রতা-ভদ্রতা জায়গা করে নিতে পারে না। কারণ তারা সামাজিক মেলামেশায় অভ্যস্ত হয়ে ওঠেনি। তাদেরকে বড় করছে ভার্চুয়াল অ্যাসিস্টেন্স- সিরি, অ্যালেক্সা, চ্যাটজিপিটি।

ভোরের কাগজ- ২৪ অক্টোবর ২০২৫

১৯ অক্টোবর ২০২৫

ট্রাম্পের নোবেল খায়েশের আশা না মিটিল, সাধ না পুরিল

সর্বত্র বুক ঠুকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি সাতটি যুদ্ধ থামিয়েছেন। পাকিস্তান, ইসরায়েল, কম্বোডিয়া, ইউক্রেনসহ আমেরিকা, সুইডেনের বহু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি একাধিকবার নোবেল কমিটির নিকট প্রস্তাবও করেছিলেন ট্রাম্পের নোবেল পাওয়ার জন্য। ট্রাম্প নিজেও নিজেকে নোবেল প্রাপ্তির যোগ্য বলে দাবি করেছিলেন বারবার। তার নোবেল পাওয়া নিয়ে বিশেষভাবে সক্রিয় ছিল হোয়াইট হাউসও। দীর্ঘদিন ধরে বিরামহীন প্রচার, শান্তির প্রতিষ্ঠায় অক্লান্ত পরিশ্রম, একরাশ প্রত্যাশা আর উচ্ছ্বাস; এতকিছুর পরও ট্রাম্পের নোবেল ছিঁকেয় তুলে ২০২৫ সালে পাঁচ জনের নোবেল কমিটি শান্তির নোবেল পুরষ্কারের জন্য বেছে নিয়েছেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে। চলতি বছর নোবেল শান্তি পুরষ্কারের জন্য ৩৩৮টি মনোনয়ন জমা পড়েছিল। মনোনয়নের তালিকায় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ছিলেন। ২০২৫ সালে নোবেলজয়ী পাবেন ১ কোটি ১০ লক্ষ সুইডিশ ক্রোনর, যা বাংলাদেশি টাকার মূল্যে প্রায় ১০ কোটি টাকা। পুরষ্কারের অর্থের সঙ্গে প্রদান করা হবে ১৮ ক্যারেট সোনার তৈরি একটি পদক। সুইডেনের রসায়নবিদ তথা ডিনামাইটের আবিষ্কারক আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছায় ১৯০১ সাল থেকে এই নোবেল পুরষ্কার চালু করা হয়। মানুষের স্বার্থে যারা কাজ করেন, তাদের স্বীকৃতি দিতেই এ পুরষ্কার। মোট ছয়টি বিভাগে নোবেল পুরষ্কার প্রদান করা হয়- শান্তি, সাহিত্য, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, শরীরবিদ্যা বা মেডিসিন এবং অর্থনীতি।

ভোরের কাগজ- ১৯ অক্টোবর ২০২৫

দৈনিক বাংলা- ১৮ অক্টোবর ২০২৫

ইত্তেফাক- ১৪ অক্টোবর ২০২৫

১২ অক্টোবর ২০২৫

সৃষ্টি যখন স্রষ্টার চেয়েও শক্তিশালী

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রয়োগ এখন রমরমা সারা বিশ্বে। কিন্তু সব ছাপিয়ে গিয়ে একজন এআই মানবীকে মন্ত্রী করে ফেলল আলবেনিয়া। রক্ত-মাংসের মানুষ নন, এআই মন্ত্রী পৃথিবীতে এটাই প্রথম। বিশ্বের এই প্রথম এআই মন্ত্রীর নাম ‘ডায়েলা’। দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ এবং সাধারণ মানুষের জন্য সরাসরি ব্যয়ে স্বচ্ছতা রক্ষা করা তার প্রধান দায়িত্ব। আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এদি রামা এমন একটি নিয়োগে উদ্যোগ নিয়েছেন। এআই মানবী ‘ডায়েলা’ তৈরি করে মন্ত্রিসভায় জায়গা করে দিয়েছেন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী। এআই মানবীর কাজে একেবারে মুগ্ধ আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী। তার বিশ্বাস, ডায়েলার নজরদারিতে প্রতিটি সরকারি দরপত্র ১০০ ভাগ স্বচ্ছ এবং দুর্নীতিমুক্ত হবে।

ভোরের কাগজ- ০৬ অক্টোবর ২০২৫

০৫ অক্টোবর ২০২৫

মৃত্যু হলে হোক, তবুও পরপুরুষের ছোঁয়া হারাম

বাংলাদেশের সঙ্গে আফগানিস্তানের কোনো মিল নেই। চিন্তা-চেতনা কিংবা ধ্যান-ধারণায় কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না কোনো মিল। বাংলাদেশে গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা অন্তত কাগজে-কলমে বজায় আছে আজও। আফগানিস্তানে শরিয়া আইন বলবৎ আছে; গণতন্ত্র বা মানবতা অনেক দূর দিয়ে হাঁটে সেখানে।তারপরও বাংলাদেশের কিছু ধর্মান্ধ মানুষের কণ্ঠে স্লোগান শোনা যায়- ‘আমরা সবাই তালেবান, বাংলা হবে আফগান’। যারা আফগান হতে চায় কিংবা আফগানের মতো হতে চায়, তাদের জন্য এই খবর। শরিয়ত আইনানুযায়ী পরপুরুষের ছোঁয়া হারাম আফগানিস্তানে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে ভয়াবহ চাঞ্চল্যকর এক তথ্য। সম্প্রতি আফগানিস্তানে মর্মান্তিক ভূমিকম্প সংঘটিত হয়েছে, যেখানে ২,২০০ জনের মৃত্যু ঘটেছে এবং ৩,৬০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও তাদের শরিয়ত ফতোয়ার কোনো পরিবর্তন হওয়ার সুযোগ নেই। আফগানিস্তানে দুর্যোগে উদ্ধারকারীদের সবাই পুরুষ; মহিলাদের সেখানে চাকরি পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আফগানিস্তানে মেয়েরা ষষ্ঠ শ্রেণির পর স্কুলে যেতে পারে না; পুরুষসঙ্গী ছাড়া বেশিদূর যাওয়ার অনুমতি নেই নারীদের। ইতোমধ্যেই অধিকাংশ চাকরিক্ষেত্র থেকেই মহিলাদের ছেটে ফেলা হয়েছে। ভূমিকম্পে ভবনের ভেতরে আটকে পড়া জীবিত মহিলারা জীবন রক্ষার জন্য কাতরাচ্ছিল। কিন্তু উদ্ধারকারী পুরুষ দল ভূমিকম্পে চাপা পড়া মহিলাদের বাঁচাতে পারেনি। পরপুরুষের ছোঁয়া হারাম- তাই মহিলাদের উদ্ধারে কোনো সাহায্য করতে পারেনি উদ্ধারকারী দল। ভূমিকম্পে মহিলারা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে- দূর থেকে তাদের দেখতে পাচ্ছে উদ্ধারকারীরা। তিলে তিলে আটকে পড়া মহিলারা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে- তারপরও উদ্ধার করার কোনো সুযোগ নেই।

ভোরের কাগজ- ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

‘জেন-জি’ আন্দোলন : বাংলাদেশ এবং নেপাল

ঠিক যেন ‘আরব বসন্ত’। গত ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ নেপালের এক মন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত হয় এক ছাত্রী। মন্ত্রী তাকে রাস্তায় ফেলে রেখেই চলে যান। ফিরে তাকানোর প্রয়োজনও মনে করেননি মন্ত্রী বাহাদুর। এই একটি দৃশ্যই হয়ে ওঠে নেপাল সরকারের স্বৈরাচারের প্রতীক। ফলাফল- নেপাল জুড়ে ‘জেন-জি’ বিদ্রোহ। তবে বিদ্রোহের ছাইচাপা আগুনটা অবশ্য ছড়াতে শুরু করেছিল এরও আগে থেকেই। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ভূয়া অ্যাকাউন্ট খুলে কিছু ব্যবহারকারী ‘ফেক নিউজ’ ছড়াচ্ছিল। এই অপব্যবহার রুখতে দেশি-বিদেশি সব ধরনের প্ল্যাটফর্মকে যোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে নথিভূক্ত হতে হবে- এমনটাই আদেশ ছিল নেপালের সুপ্রিম কোর্টের। টিকটকসহ কিছু সামাজিকমাধ্যম সেই নির্দেশ মেনেও নেয়। বাদ সাধে মেটা, অ্যালফাবেট, এক্সসহ আরও কিছু সংস্থা। সময়সীমা পেরোতেই ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপসহ ২৬টি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করে দেয় নেপালের কেপি ওলীর সরকার। সরকারের এই একটি সিদ্ধান্তই নেপালের ‘জেন-জি’-কে ঝাঁকিয়ে দিতে যথেষ্ট ছিল।

২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

অপেক্ষার দুর্গা, উৎসবের দুর্গা

বাঙালি হিন্দুদের দুর্গাপূজা। রাজা কংসনারায়ণের হাত ধরে ৫৪০ বছর আগে বাংলায় দুর্গাপূজা শুরু হয়েছিল। অবিভক্ত ভারতবর্ষের বরেন্দ্র অঞ্চলের শহর রাজশাহীর তাহেরপুরের সামন্ত রাজা ছিলেন কংসনারায়ণ। মোগল শাসক থেকে রাজা উপাধি প্রাপ্তি উপলক্ষে তিনি দুর্গাপূজার সূচনা করেছিলেন। রাজা কংসনারায়ণ এমন কিছু করতে চাইলেন, যার ফলে হিন্দুসমাজ তাঁকে আজীবন মনে রাখবে। রাজা পণ্ডিতদের ডাকলেন রাজসভায়। জানালেন, তিনি আয়োজন করতে চান অশ্বমেধ যজ্ঞ। কিন্তু পণ্ডিতেরা রাজার এ ইচ্ছে নাকচ করে দিলেন। তারা বললেন, কলিযুগে অশ্বমেধ যজ্ঞের বিধান শাস্ত্রে নেই। পণ্ডিত রমেশ শাস্ত্রী রাজাকে বিকল্প হিসেবে দেবী দুর্গতিনাশিনীর পূজা করার পরামর্শ দিলেন। রাজা সম্মত হলেন। মহাসমারোহে হয়ে গেল এরপর দুর্গোৎসব। রাজা খরচ করলেন সেসময়ের সাড়ে ৮ লক্ষ টাকা। রাজা কংসনারায়ণের দুর্গাপূজার রীতি অনুযায়ী এখনো রাজশাহীর তাহেরপুরে দুর্গাপূজা হয়। সেখানে মাটির প্রতিমায় দুর্গাপূজা হয় না; প্রতিমা বিসর্জনও হয় না। অষ্টধাতুর স্থায়ী একটি দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবছর সেই প্রতিমা দিয়েই সেখানে হচ্ছে দুর্গাপূজা। রাজবংশের পরবর্তী বংশধর ১৯৪৭ সালে ভারতভাগের পর দেবীবিগ্রহসহ ভারতের জলপাইগুড়ি চলে গেলে তারপরও স্থানীয় উদ্যোগে একই পদ্ধতিতে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয় এখানে।

দৈনিক ইত্তেফাক- ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

সুরক্ষার মুখোশে আগ্রাসন

বিষয়টি আমি হয়তো খুব পরিষ্কার করে বুঝাতে পারব না। কারণ, বিষয়টি আমার কাছেও খুব পরিষ্কার নয়। আমি ছোট্ট একটি পথশিশু, কতটুকুই-বা জ্ঞান রাখি। আসল জ্ঞানী মানুষ বোধ হয় মোটের ওপর অসাম্য, আধিপত্য, উৎপীড়নকেই নতুন সভ্যতার ভিত্তি করতে চায়। তাই তাদের হিসাব অনুযায়ী, আমাদের যেটুকু হৃদয়বৃত্তি আছে, তাকে যথাসম্ভব ধ্বংস করাই হয়তো বাঞ্ছনীয়। পথশিশুদের থেকে তাদের মানবশিশুদের সুরক্ষার যুক্তি তো থাকবেই। অনেকের কাছে হয়তো আরও বড় কোনো যুক্তি আছে। থাকতেই তো পারে! বাজারে মুরগি-কাটা, ছাগল-কাটা, গরু-কাটার দৃশ্যগুলো শিশুদের দেখানোই যথেষ্ট নয়; একেবারে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে পথশিশুদেরকে টেনে-হিঁচড়ে, আহত করে তুলে নিয়ে গেলে, সংকীর্ণ খাঁচায় মুরগির মতো মৃত্যুর প্রতীক্ষায় রেখে দিলে, তা দেখে তাদের মানবশিশুরা হয়তো সভ্যসমাজে আরও উপযুক্ত হয়ে উঠবে। এমনটা না হলে এই শিশুদের মধ্যে দাপট দেখানো, দাবিয়ে রাখার মতো আগ্রাসন কীভাবে তৈরি হবে? কেউ হয়তো আরও একটু বাড়িয়েই দাবি তুলবেন, উন্মত্ত জনতার যৌথ প্রয়াসে পথশিশুদের গণনিধন করতে পারলে সমাজে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করা যেত। সত্যিই তো, চরম কিছু না করলে এই সভ্যতাকে কি বাঁচিয়ে রাখা যাবে?

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মৃত্যুই যেখানে প্রতিবাদের ভাষা

প্রবীণ সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারের দেহ মুন্সিগঞ্জের মেঘনা নদীতে ভাসতে দেখে শিউড়ে উঠেছিলাম। অতঃপর তাঁর সর্বশেষ লেখাটা পড়ে মনটা আরও বড় করে কেঁপে উঠেছিল। নিজের কর্মজীবনে একজন পেশাজীবী মানুষ কতটা আঘাত পেলে, কতটা ক্ষতবিক্ষত হলে, কতটা অসহায় হয়ে উঠলে এমন যন্ত্রণার বিদায়বার্তা লিখতে পারেন! পড়ে মনে হচ্ছিল, এ যেন আত্মহননের জবানবন্দি নয়- এ যেন তাঁর ইচ্ছাপত্র (উইল), তাঁর সংক্ষিপ্ত আত্মজীবনী! মনে হচ্ছে, সাংবাদিক হিসেবে তিনি শেষ সময়ে এসে দায়িত্বটা পালন করতে পারলেন, মানুষকে সাংবাদিক জীবনের সত্য সংবাদটা পৌঁছে দিতে পারলেন। ‘আজকের পত্রিকা’-র এই অভিজ্ঞ সাংবাদিককে সেজন্য আত্মহননের রাস্তাটিই বেছে নিতে হলো। মৃত্যুই তাঁকে ভরসা দিল, বুকের ওপর জমে থাকা পাথর সরিয়ে খোলাখুলিভাবে সত্য কথাগুলো অকপটে জানিয়ে দেওয়ার। সেইসঙ্গে তিনি তাঁর পেশাটাকেও বে-আব্রু করে দিয়ে গেলেন। ঘরে-বাইরে, অফিসে, অ্যাসাইনমেন্টে শুধু সংঘাত-প্রতিঘাত! সত্য কথাগুলো বলা যায় না, লেখা যায় না! কিন্তু তিনি লিখে যেতে পারলেন- তবে ঠিক মৃত্যুর আগে।

৩১ আগস্ট ২০২৫

মাছ স্বাধীন, মানুষ স্বাধীন; শুধু বড়শীটি অন্য হাতে

অনেক দিন আগের কথা। কোনো এক অনামা দেশে বিকেলে একটি বিশেষ সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেই সভা মানুষের ছিল না, ছিল মাছের। খাল-বিল-নদী-সমুদ্র এসব জায়গার মাছেরা এক জায়গায় একত্রিত হয়ে সভা করছে। এমন সভা এদের মাঝে-মধ্যেই হয়। নিজেদের ভালো-মন্দ নিয়ে এরা চিন্তা-ভাবনা করে, আলোচনা করে, দাবি-দাওয়া ঠিক করে। তবে সেদিনের সভাটা বেশ বড় ছিল- বিশেষ সভা ছিল; ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা করার তাগিদে এদের এ সভা করা। সামনে মুসলমান মানুষদের সবচেয়ে বড় উৎসব ঈদ এবং হিন্দুদের বড় উৎসব দুর্গাপূজা। এর কিছুদিন পরই খ্রিষ্টানদের ক্রিসমাস। এরকম সময়ে মানুষের শখ হয় বেশি-বেশি মাছ খাওয়ার, বেশি-বেশি মাছ ধরার। আজকের সভায় মাছেরা তাই তাদেরকে কীভাবে রান্না করে খেলে ভালো লাগবে; ভেজে খাবে, না সস্ মিশিয়ে ভিন্ন কায়দায় রান্না করবে মানুষেরা- সেই চিন্তা-ভাবনা করতেই একত্রিত হয়েছে। জনসভায় একেবারে উপচে-পড়া ভিড়। আলোচনার জন্য নির্ধারিত বিষয় সম্পর্কে গভীর আলোকপাত করা হলো এবং মাছ সম্প্রসারণে মানুষের নানাবিধ গবেষণার ভূয়সী প্রশংসা করা হলো। মাছের বহুল উৎপাদনে আনন্দ বহিঃপ্রকাশ করা হলো এবং উৎপাদনকারীদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হলো। এমনকি খুদে মাছের পোনারাও এ আশ্বাস পেয়ে খুব খুশি যে, এদের দলবেঁধে চলার পথে কোনো বাধা প্রদান না করে বরং বিষয়টি যেন গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মানুষদের অনুরোধ জানানো হবে।

২৪ আগস্ট ২০২৫

’৭১-এর স্বপ্ন বাঙালির বাংলাদেশ

জানেন তো, মানুষ কী করে পথ চেনে? পথ চিনতে পারা, পথ খুঁজে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছতে পারা সম্ভব হয় মস্তিকের অন্দরমহলে অবস্থিত এক প্রকার ‘মেমরি সেল’-এর বদৌলতে। মেমরি সেলের সাহায্যেই প্রতিটি স্থান আলাদা করে চেনা সম্ভব হয়। এছাড়া কতটা দূর বা কোনদিকে গেলে আমরা গন্তব্যে পৌঁছতে পারব, সেই দিকনির্দেশ চেনানোর কাজ করে বিশেষ আরেক ধরনের নার্ভসেল, যাদের বলা হয় ‘গ্রিডসেল’। নিজের অবস্থানকে চিহ্নিত করা যায় ‘প্লাস সেল’ দিয়ে। ‘প্লাস সেল’ আর ‘গ্রিড সেল’ আবিষ্কারের ফলেই মানুষের পথ খুঁজতে, বুঝতে ও চিনতে পারার রহস্যের উদ্ঘাটন সম্ভব হয়েছে। আমাদের যাত্রাপথের প্রতিটি স্থানের নিখুঁত ও বিশদ মানচিত্র মজুত থাকে মস্তিস্কে; তার জেরেই সম্ভব হয় নেভিগেশন প্রক্রিয়া। ‘গ্রিড সেল’ অনেকটা মস্তিষ্কের ইন্টার্নাল জিপিএস-এর কাজ করে। স্থান-জ্ঞানের সঙ্গে জড়িত দূরত্ব ও গতির ধারণা- এ সবকিছুর অভিজ্ঞতা মগজে মজুত থাকে বলেই আমরা যখন আগের জায়গাটিতে যাই, সে স্থান বা পথ চিনতে পারা সম্ভব হয়। কিন্তু চেনা পথটিও যখন চিনে ঘরে ফিরতে পারে না কোনো মানুষ, চিনতে পারে না রাস্তা কিংবা নিজের অবস্থান- চিকিৎসা শাস্ত্রের পরিভাষায় একে বলে ‘ডিমেনশিয়া’ বা ‘আলঝেইমার’-এর মতো জটিল নিউরোডিজেনারেটিভ রোগ। স্মৃতি, চিন্তাশক্তি ইত্যাদির ওপর ছায়া ঘনানো এ অসুখ গোলমাল করে দেয় সেন্স অব ডিরেকশন-এর গতি-প্রকৃতি। এটি মানুষের বাস্তব জীবন ও শরীর সংক্রান্ত বিজ্ঞান। এর সঙ্গে তুলনা করা যায় রাজনীতি-রাষ্ট্র এবং সমাজ জীবনেরও। রাজনীতির ‘মেমরি সেল’ হারানো মানুষগুলোও রাজনৈতিকভাবে ‘ডিমেনশিয়া’ রোগে ভুগেন।

ভোরের কাগজ - ২১ আগস্ট ২০২৫

২০ আগস্ট ২০২৫

বঙ্গবন্ধু কালজয়ী, তাঁর মৃত্যু নেই

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট একদল ঘাতক হত্যা করেছিল বাঙালি জাতির সবচেয়ে জ্যোতির্ময় মানুষটিকে। বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধুকে; জাতির পিতা শেখ মুজিবকে। ভালোবাসায় তিনি ডাক পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু হিসেবে, শ্রদ্ধায় বসেছেন জাতির পিতার গৌরবময় আসনে। ইতিহাসের এই মহানায়কের মৃত্যুদিবস পালিত হলো ক’দিন আগে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে শুধু আওয়ামী লীগের মুজিব বলেই মনে করেছেন। তাই তাদের কাছ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রয়াণ দিবসে কোনো শোকপ্রস্তাব নেই। বরং ১৫ আগস্টের কালো দিবসকে পাশ কাটাতে একদিন বেগম খালেদা জিয়া যেভাবে এ দিনটিকে তার জন্মদিন পালন করেছিলেন, ঠিক বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান অধ্যাপক ইউনূসও সে পথ অনুসরণ করে এ দিনটিতেই বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিনে ফুলের তোড়া পাঠিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সরকারপ্রধানের প্রেস সচিব আরও একধাপ এগিয়ে গিয়ে ঘোষণা দিয়েছেন, ১৫ আগস্টে কেউ শেখ মুজিবের মৃত্যুদিবস পালন করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব জনাব শফিকুল আলমকে কখনও আমার প্রেস সচিব মনে হয়নি; বরং মনে হয়েছে সব বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের মুখপাত্র, কখনও কখনও তার চেয়েও বেশি কিছু। তার প্রেস রিলিজ, সংবাদমাধ্যমে কথাবার্তা সবকিছু শুনে শুনে মনে হয়েছে, তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সব দায়িত্ব এবং কর্তৃত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন।

ভোরের কাগজ - ১৩ আগস্ট ২০২৫

দৈনিক বাংলা- ১২ আগস্ট ২০২৫

০৬ আগস্ট ২০২৫

হিন্দু নির্যাতন চলছে প্রতিকারহীন পথেই

একদিকে দক্ষিণ এশিয়ায় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ‘আজাদ হিন্দ ফৌজ’-এর জয়যাত্রা আর করাচিতে নৌ-সেনা বিদ্রোহ এবং অন্যদিকে ১৯৪৬-এর হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা স্পষ্ট করে দিচ্ছিল ভারতের স্বাধীনতা আসন্ন। লেবার পার্টির নেতা এটলি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হয়েই তা চট করে বুঝে নিয়েছিলেন। কিন্তু সোনার ডিম পাড়া একটা তাজা হাঁস কি হাসিমুখে ছেড়ে দিয়ে যাবে ইংরেজ? সব মহলেই সংশয় গভীরতর হচ্ছিল। তবে শেষ নষ্টামি করার জন্য ইংরেজকে কোনো বিশেষ গবেষণা কিংবা কসরত করতে হলো না। ভারতবাসীরাই ইংরেজের হাতে হিন্দু-মুসলিম অনৈক্যের লোভনীয় ক্যাচ তুলে দিল। উপমহাদেশের এই দুই প্রধান ধর্মীয় সম্প্রদায়ের কতিপয় নেতা একসঙ্গে থাকতে রাজি হলো না। হিন্দুস্তান থেকে কিছু ভূমি ভাগ করে তৈরি হলো পাকিস্তান। যশোর, খুলনা, কুমিল্লাসহ অনেক হিন্দুপ্রধান জায়গা পূর্ব পাকিস্তানে ঢুকে গেল; মুর্শিদাবাদ, মালদহসহ অনেক মুসলিমপ্রধান জায়গা ঢুকে গেল ভারতে। বাঙালির সেই লড়াই আজও অব্যাহত- সংখ্যালঘু পরিচয়ে। পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘু মুসলিমরা, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুরা। বাংলাভাষী এই বাঙালিদের ভাগাভাগি করে নানাভাবে সংখ্যালঘু করে দিতে পেরেছিল ইংরেজ। এটাই তাদের সেদিনের সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল।

০৩ আগস্ট ২০২৫

বদলের বাংলাদেশে এটা কি বিচার, না বদলা?

পত্রিকায় যারা লেখালেখি করেন, তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য থাকে জনপ্রিয় কিংবা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় নিয়ে বিশ্লেষণ করা, যা বেশি পাঠককে আলোড়িত করবে। এর সঙ্গে আরও একটি উদ্দেশ্য থাকে- পাঠককে তার লেখার মাধ্যমে নতুন ধারণা বা জ্ঞান বা শিক্ষা দেওয়া; পাঠককে সমাজ-রাষ্ট্রের বৃহত্তর কল্যাণে তৈরি করার প্রয়াস করা। আজ যে বিষয়ে আমি লিখতে যাচ্ছি, তা মোটেও জনপ্রিয় বিষয় নয়। যাকে নিয়ে লিখতে যাচ্ছি, তিনি জনপ্রিয় তো ননই; বরং বলা যায়, অনেকের কাছেই বর্তমানের অন্যতম ঘৃণিত ব্যক্তিদের একজন। তবুও আমি তাকে নিয়েই লিখব- তার বিষয় নিয়েই লিখব। কেননা, সময়মতো সত্য কথা বলার সুযোগ যেহেতু আছে, আমি এর সদ্ব্যবহার করতে চাই।
প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক অবশেষে পুলিশের জালে আটকা পড়েছেন। তিনি ২০১০-২০১৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ছিলেন। ২০১৩-২০২৪ সাল পর্যন্ত আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন। হাসিনার ঘনিষ্ট হিসেবেই পরিচিত ছিলেন তিনি। তাই হাসিনা সরকারের সময় পুরষ্কার হিসেবে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান থাকতে পেরেছিলেন দীর্ঘসময় ধরে। তিনি বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় দিয়েছিলেন, হাইকোর্টে থাকাকালে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় এবং সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী মামলার রায় দিয়েছিলেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক নন এমন রায় দিয়েছিলেন, ফতোয়া অবৈধ ঘোষণার রায় দিয়েছিলেন এবং বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঢাকা সেনানিবাসের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের রায়ও তিনিই দিয়েছিলেন। তবে এসব রায় দেওয়ার কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জুলাই ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের সময় যাত্রাবাড়ি থানার একটি হত্যা মামলার আসামী হিসেবে। সেই মামলায় প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এবং সে সময়ের আইন কমিশনের চেয়ারম্যান খায়রুল হক ৪৪ নম্বর আসামী।

ভোরের কাগজ - ৩০ জুলাই ২০২৫

২৭ জুলাই ২০২৫

ইউনূস স্যার, আপনি দেশটি পেছনের দিকে নিচ্ছেন

এক বছর আগে এক রক্তক্ষয়ী গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসের এনজিও জীবনের ভুল-ত্রুটি বিশ্লেষণ করার সুযোগ হয়নি; কেননা, বিশ্লেষণের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ তথ্য কখনও প্রকাশিত হয়নি। কিন্তু হাসিনা সরকারের সময় যেখানে তার জেলে যাওয়ার বন্দোবস্ত প্রায় নিশ্চিত ছিল, সেখানে হাসিনা-উত্তর বাংলাদেশে তার জন্য অপেক্ষায় ছিল প্রধান উপদেষ্টার পদটি। এবার আলোর নিচে তিনি- সব তথ্য পরিষ্কার এবং বিশ্লেষণের জন্য প্রকাশিত। সরকারপ্রধানের পদটি রাজনৈতিক এবং পাবলিকলি দায়বদ্ধ। ভুল-ত্রুটি গোপন করা কিংবা ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। কারণ এখানে রাষ্ট্র এবং সরকার জড়িত, দেশ এবং জনগণ জড়িত। তার এই পদের ভালো কাজে বাংলাদেশ, বাংলাদেশের জনগণ এবং বাংলাদেশের রাজনীতি যেমন উপকৃত হতে পারে, তেমনি তার ভুল কাজেও এদেশের সবার ক্ষতি হতে পারে। তার বিষয়ে একটি বক্তব্য সবসময় সমাজে চালু ছিল- তিনি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী চিন্তার মানুষ; তিনি কখনও শহিদ মিনার এবং স্মৃতিসৌধে যাননি; তিনি মুক্তিযুদ্ধকে কখনও প্রকাশ্যে সমর্থন করেননি। প্রমাণিত তথ্যের অভাবে এই ন্যারেটিভ সমাজে চালু থাকলেও কখনও তা প্রমাণিত হয়নি, আবার কখনও তা বাতিলও হয়ে যায়নি। অন্যদিকে, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার বিশেষ করে তৎকালীন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা তার প্রতি এতটাই নেগেটিভ ছিলেন যে, ইউনূসের বিরুদ্ধে তাদের প্রচারগুলো তখন মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতা লাভ করেনি। ড. ইউনূস আরও একবার সুযোগ পেয়েছিলেন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারপ্রধান হওয়ার। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাব সেদিন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এবার আন্দোলনকারী ছাত্রদের মনোনয়নে তিনি বললেন ‘হ্যা’। শুরু হলো তার নতুন জীবন। সরকারপ্রধান- প্রধান উপদেষ্টার জীবন। আমাদেরও সুযোগ হলো তাকে নিয়ে বিশ্লেষণ করার। শুরুতেই একটি প্রশংসা করে নিচ্ছি, খোলা হাতে তার সমালোচনা লিখতে পারছি। বাধা নেই, ডিজিটাল আইনে মামলা হওয়ার ভয়ও নেই।

২০ জুলাই ২০২৫

যুদ্ধের আওয়াজেও দাদাগিরি

জেনারেল সান জু- চীনের এই সেনাকর্তা ও সমর বিশেষজ্ঞের জীবনকাল ছিল খ্রিষ্টপূর্ব ৫৪৪ থেকে খ্রিষ্টপূর্ব ৪৯৬ পর্যন্ত। অর্থাৎ সান জু যীশু খ্রিষ্টের জন্মের বহু আগেই পৃথিবীতে এসেছিলেন এবং বিলীন হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি এবং তার লেখা বই ‘দ্য আর্ট অব ওয়ার’ হাজার হাজার বছর পর আজও প্রাসঙ্গিক। কীভাবে যুদ্ধে জয়ী হওয়া যায়, কোন কোন ফ্যাক্টরের দিকে নজর দিতে হবে, কেমন হবে যুদ্ধের স্ট্র্যাটেজি- এসব প্রশ্নের উত্তর আছে ‘দ্য আর্ট অব ওয়ার’-এ। তার বই অন্ধের মতো অনুসরণ করে সাফল্য পেয়েছিলেন নেপোলিয়ন, মাও সে তুঙ, ফিদেল কাস্ত্রো, জোসেফ স্তালিন। কোনো ফিকশন নয়, গদ্যের বাহার নেই- ভূমিকা বা উপসংহার খুঁজতে গেলে হতাশ হতে হবে। শুধুই কতকগুলো পয়েন্ট- এক, দুই, তিন করে লেখা। কিন্তু তার এ বইটির প্রাসঙ্গিকতা ছিল, আছে এবং থাকবে। প্রথম পয়েন্টঃ ‘দ্য মর্টাল ল’। শাসকের সঙ্গে পুরোপুরি সম্পৃক্ত হওয়া, বিশ্বাস রাখা, অন্ধের মতো শাসককে অনুসরণ করা। দ্বিতীয় পয়েন্টঃ ‘হেভেন’ বা ‘স্বর্গ’। সান জুর দ্বিতীয় শর্ত- যুদ্ধের ময়দানে রাত বা দিন, শীত বা গ্রীষ্ম; লক্ষ্য থাকবে একটাই- এগিয়ে যাওয়া। সান জুর তৃতীয় পয়েন্টঃ ‘আর্থ’ বা ‘পৃথিবী’। আক্রমণের দিশা, ওজন, নিরাপত্তাব্যবস্থা, জীবন-মৃত্যুর সম্ভাবনা, কতটা সংকীর্ণ পথ অতিক্রমের ঝুঁকি রয়েছে- এসবই আগে যাচাই করে নেওয়া। চতুর্থ পয়েন্টঃ ‘কমান্ডার’। যুদ্ধের মূল ব্যাটন যার হাতে- সে কতটা স্থির? কতটা তার উপস্থিত বুদ্ধি? কীভাবে পরিস্থিতি অনুযায়ী স্ট্র্যাটেজি বদল করতে পারেন? এসবই হচ্ছে কমান্ডারের গুণ। সান জুর শেষ পয়েন্টঃ ‘মেথড’ এবং ‘ডিসিপ্লিন’। কীভাবে সেনার মধ্যে ধাপে ধাপে দায়িত্ব বন্টন হবে, কীভাবে তারা সে দায়িত্ব পালন করবে- সেটাই যুদ্ধের মেথড। আর ডিসিপ্লিন হলো, কোনোভাবে সেনা যেন স্ট্র্যাটেজি থেকে সরে না আসে। সান জুর আরেকটি কথা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল- দীর্ঘকালীন যুদ্ধে কোনো দেশের লাভ হয় না। বর্তমানের বাস্তবতায় সান জুর কথাটা একটু ঘুরিয়ে বললে এভাবে দাঁড়াবে- যুদ্ধে কোনো দেশেরই লাভ হয় না।

১৩ জুলাই ২০২৫

অবিশ্বাসের কাঠগড়ায় খুদ বিচারব্যবস্থা

বিচারাঙ্গনে মবের দৌরাত্ম, পঁচা ডিমের আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত আসামী-পুলিশ-বিচারক, একের পর এক রায়ের পরিবর্তন, আগের বিচার ভুল-ত্রুটিযুক্ত, ফাঁসির আসামীর গলায় বিজয়ের ফুলের মালা- অবিশ্বাসের কাঠগড়ায় খুদ বিচারব্যবস্থা। এমন একটি সময় ঠিক দেখতে প্রস্তুত ছিল না এদেশের মানুষ। সবটাই অভিযোগ- কিন্তু গুরুতর, প্রমাণসাপেক্ষ। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে খুব জোরের সঙ্গে প্রতিবাদও নেই বিচারব্যবস্থার। আবার অভিযোগ মেনে নেওয়ার ইঙ্গিতও নেই। সবকিছু যেন গোলমেলে-অগোছালো। স্বয়ং দেশের বিচারব্যবস্থার যদি এমন অবস্থা হয়, তবে বাকি অংশটি কীভাবে চলছে? প্রকৃত অর্থে, সবকিছু ঠিকঠাক চলছে না। আর চলছে না বলেই আঘাতটা বিচারাঙ্গনকেও ছাড়ছে না। তাই বিচারব্যবস্থাটিই অভিযোগের কাঠগড়ায়। দেশ, রাষ্ট্র, বিচারব্যবস্থা, বিচারকের আসন সবই ঠিকঠাক আছে- মাঝখানে শুধু রাষ্ট্রক্ষমতার পরিচালনা পর্ষদের পরিবর্তন ঘটেছে; বিচারকের আসনের ব্যক্তিদের পরিবর্তন ঘটেছে। এর ফলে আগের শাসনকালে যা আইন মেনে গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত ছিল, ঠিক পরের শাসনে সেগুলোর সবকিছুই আইনের স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হলো। এক শাসনে আসামী শাস্তিপ্রাপ্ত, অন্য শাসনে সম্মানের সঙ্গে খালাস। হাকিম নড়ে, কিন্তু হুকুম নড়ে না- দীর্ঘদিনের জানা তথ্য ঘুরে গেল ১৮০ ডিগ্রি মেরুতে। হাকিম নড়ল, হুকুম নড়ল- আগের হুকুমদাতা, পরের আসামী। আদালতের গণেশ উল্টে গেল রাজনৈতিক পরিবর্তনে।

০৭ জুলাই ২০২৫

নারী-পুরুষের জটিল সম্পর্কের পুরুষশ্রেষ্ঠ

পুরুষশ্রেষ্ঠ কারা- এ নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। সেই রামের সময় থেকে আজ অবধি পুরুষরা শুধু প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে চর্চ্চাই করে যাচ্ছে- কারা পুরুষশ্রেষ্ঠ। আর্থিক সাফল্য, পেশিবহুলতা, সীমাহীন যৌন ক্ষমতা, নারীকে আকর্ষণ করার সামর্থ্য- এসবই কি উপাদান? পিতৃতান্ত্রিক সমাজ পুরুষকে রক্ষক ও জোগানদারের ভূমিকায় দেখতে অভ্যস্ত; আর নারীকে মাতা, জায়া, কন্যার রোল প্লে করার দায়িত্ব ও সম্মান রক্ষার দায় দিয়েছে সবসময়ই। পুরুষ তাই নিত্যনতুন মাল্টি-ভিটামিন আর স্টেরয়েড গ্রহণের আগে চিন্তাই করতে পারে না- এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ব্যাপারটি। সমাজ তাকে শেখায় ঠিক-ভুল আর ন্যায়-নীতির কাঠামোকে খানিক আলগা করে শটকাটে বেশি রোজগারের পন্থাটি। তাকে ভাবতেই সুযোগ দেয় না, দীর্ঘমেয়াদে এর পরিণাম কতখানি ভয়াবহ হতে পারে! নিত্যনতুন চমক দেখিয়ে চ্যালেঞ্জের ভাবনাটা মনে আসতেই দেয় না তাদের। কিন্তু একটা সময়ের পর ঘোর কাটলে যখন দেখে- এত আশা, শ্রম ও অর্থ বিনিয়োগও নিজেকে কাংক্ষিত পুরুষ করে তুলতে পারল না, তখন শুরু হয় পুরুষের অস্তিত্বের সংকট। পুরুষের এই ব্যর্থতার গ্লানি, অস্তিত্বের সংকট সেই ব্যর্থ পুরুষকে একসময় ধর্ষণাত্মক করে তোলে মহিলাদের প্রতি। এটি তাকে বিশ্বাস করায়- নারীবাদ, লিঙ্গসমতা আর নারী-উন্নয়নের মতো বিষয়গুলোই সংসারে পুরুষের দুরাবস্থার প্রধান কারণ।

দৈনিক ইত্তেফাক - ০৫ জুলাই ২০২৫

২২ জুন ২০২৫

ক্ষমতার অলিন্দে মানুষ শুধু উলুখাগড়া

রাশিয়া-ইউক্রেন এবং ইসরায়েল-গাজার মধ্যে অনেকদিন ধরেই যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলা চলছিল; বিশ্বশান্তি এতে বেশ খানিকটা অধরা ছিল। এরপর সেখানে যোগ হয়ে গেল ভারত-পাকিস্তান নতুন যুদ্ধের খেলা। এর রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয়ে গেল আবার ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ। রীতিমতো আমরা যেন যুদ্ধের তপ্ত উনুনে বসবাস করছি। চারদিকে যুদ্ধের রই-রই শব্দ। একদল তালি বাজাচ্ছে, আর একদল যুদ্ধ মিটিয়ে দিতে যুদ্ধরত শক্তির মধ্যে মধ্যস্ততায় এগিয়ে আসছে হিরো সাজতে। এই হিরোরা যুদ্ধ লাগিয়ে দেয়, তারপর হিরো হওয়ার জন্য সামনের কাতারে আসে ধমক দিয়ে কিংবা কখনো আপোসের সুর বাজিয়ে যুদ্ধরত পক্ষকে শান্ত রাখার চেষ্টা করে। ততক্ষণে যা ক্ষতি হওয়ার, তা হয়ে যায়! ইসরায়েলের আচমকা এবং নিখুঁত আঘাতে বেসামাল হয়ে পড়ে ইরানের সামরিক বাহিনী। ইরানের পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেনা ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে হামলা চালায় ইসরায়েল। তাদের অপারেশন ‘রাইজিং লায়ন’ একযোগে হামলা করে ইরানের কারমানশাহ, তেহরান, আরাক, নাতানুজ এবং ইসফাহান শহরে। ওই হামলায় মৃত্যু হয় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক, ইরান রেভলিউশনারি গার্ডের প্রধান কমান্ডার এবং ডেপুটি কমান্ডারের। ইসরায়েলি হামলায় আরও প্রাণ হারায় ইরানের পরমাণু সংস্থার প্রাক্তন প্রধানসহ মোট ছয়জন পরমাণু বিজ্ঞানী। পাল্টা জবাব দিতে ইরান সম্প্রতি (১৩ জুন ২০২৫) জুম্মার নামাজের পর কোম শহরের জামকারান মসজিদের চূড়ায় উড়িয়ে দিয়েছে লাল পতাকা। অতীতেও আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ শুরুর আগে এভাবেই লাল পতাকা উড়ানো হয়েছে এ মসজিদে। তারপর থেকেই চলছে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ, হামলা-পাল্টা হামলা, মৃত্যু-ধ্বংস- পাল্টা মৃত্যু-ধ্বংস। আজ পর্যন্ত ইরানে কয়েক শ’ মানুষ মরেছে, কয়েক হাজার মানুষ আহত হয়েছে। একই অবস্থা না হলেও বেশ কয়েকজন ইসরায়েলি ইরানের ছোড়া গোলায় প্রাণ হারিয়েছে এবং কয়েক হাজার আহত হয়েছে। দু’দেশের মানুষগুলো মরছে আর দু’দেশের যুদ্ধ করার জেদ আরও বাড়ছে।

দৈনিক ইত্তেফাক - ১৯ জুন ২০২৫

০৮ জুন ২০২৫

প্রধান উপদেষ্টাকে পথহারা পথিক মনে হচ্ছে

গ্রামীণ ব্যাংকের প্রবর্তক কিংবা নোবেল বিজয়ী কিংবা ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থার প্রবর্তক কিংবা সামাজিক ব্যবসার প্রবর্তক কিংবা বিদেশে বসবাসরত অধ্যাপক ইউনূসের নিকট কোনো প্রশ্ন নেই। তার সব কাজে ও প্রাপ্তিতে আমরা গর্বিত এবং সম্মানের ভাগীদার। কিন্তু তিনি সেখানেই থেমে থাকেননি; আন্দোলনরত ছাত্রদের ডাকে তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তাই তার নিকট এখন শুধু প্রশ্ন নয়- তার কাছ থেকে জবাবটিও জনগণের প্রাপ্য অধিকারে পরিণত হয়েছে। প্রশ্নটি- তার হাত দিয়ে কিছু নিয়োগপ্রাপ্তিতে। প্রশ্নটি- ক্ষমতায় বসেই তার এবং তার প্রতিষ্ঠানের কিছু প্রাপ্তিতে। প্রশ্নটি- তার মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী এবং জামায়াতসহ ডানপন্থী ইসলামিক দলবান্ধব কিছু কর্মকাণ্ডে। গত ১০ মাসের অর্থাৎ তার ক্ষমতাকালীন সময়ে নজরে পড়ে অন্তর্বর্তী সরকার থেকে তার এবং তার সংস্থার কিছু প্রাপ্তির তালিকা। তিনি নিজের সংস্থা গ্রামীণ ব্যাংকের ৬৬৬ কোটি টাকা সুদ মওকুফ করিয়ে নিয়েছেন এবং আগামী পাঁচ বছরের জন্য নতুন কোনো কর দিতে হবে না- এমন নিশ্চয়তা নিয়ে নিয়েছেন; নিজের ব্র্যান্ড গ্রামীণ ফোনের ৪ হাজার কোটি টাকা পাওনা মওকুফ করিয়ে নিয়েছেন; গ্রামীণ নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদিত হয়েছে; গ্রামীণ মেডিক্যাল কলেজ, গ্রামীণ ট্রাস্ট এবং গ্রামীণ ম্যানপাওয়ার সংস্থা রেজিস্ট্রিকৃত হয়েছে; গ্রামীণ ফোনের সঙ্গে স্টার লিংকের চুক্তি করিয়ে নিয়েছেন ইত্যাদি। তার বিরুদ্ধে চলমান বেশ কয়েকটি মামলা ক্ষমতা গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই তাড়াহুড়া করে ন্যায়বিচারের বাণী পৌঁছে গিয়েছিল তার কানে। সব মামলা থেকে তিনি খালাস হয়ে যান। হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া বেশ কয়েকজন ছাত্রনেতাকে তিনি উপদেষ্টা করেছেন। সেই নিয়োগ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন আছে- কেননা, তাদের কাছ থেকে মানুষ এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো ভালো কাজের উদাহরণ দেখতে পায়নি। বরং একজন তরুণ উপদেষ্টার ব্যক্তিগত অফিসার দুর্নীতির অভিযোগে বরখাস্ত হয়েছে এবং দুদকের তদন্তাধীন আছে। তার নিয়োগকৃত স্বাস্থ্য উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, সংস্কৃতি উপদেষ্টা, ধর্ম উপদেষ্টা, গণপূর্ত উপদেষ্টা, বাণিজ্য উপদেষ্টাসহ বেশ কয়েকজন উপদেষ্টার নিয়োগে জনমনে ক্ষোভ আছে। এই নিয়োগগুলো স্পষ্টভাবে দিকনির্দেশ করে তার সরকারের চরিত্রের একটি বিশেষ দিক, যা ক্ষমতা গ্রহণের শুরু থেকেই জনগণের মুখে মুখে আছে। তার উপদেষ্টামণ্ডলীর লোকজন বিভিন্ন পেশার হলেও তারা সবাই এনজিও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বহন করে। রাজনীতি, রাষ্ট্রনীতি এবং সরকারনীতি তাদের কাছে দুর্বোধ্য বলেই মনে হচ্ছে।

০২ জুন ২০২৫

হঠাৎই ওলটপালট রাজনৈতিক দৃশ্যপট

রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই- এটা রাজনীতির ধারাপাতের প্রথম শিক্ষা। আর এ বিষয়টি একেবারেই টলমলে সবসময় বাংলাদেশের ক্ষেত্রে। সকালে যা দেখছেন, রাত গড়ালে তা যে ঠিক দেখবেন- তা নিশ্চিত করে বলার উপায় নেই। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের নয় মাসের মাথায় এটি আরও একবার স্পষ্ট করে দিল। অভ্যুত্থানের শক্তিগুলো আগেই বিভক্ত ছিল; স্বার্থের দ্বন্দ্ব এবং অবিশ্বাস ছিল ভিন্ন অবস্থানে। প্রশাসনের পুরনো চিত্র খুব একটা বদলাতে পারেনি; দুর্নীতির শুধু হাতবদল হয়েছিল, সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক রাজনৈতিক এবং সাংগঠনিক আন্দোলন ছিল, উপদেষ্টাদের কারো কারো কার্যক্রম নিয়ে জনমনে অসন্তোষ ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান ড. ইউনূস কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত উপদেষ্টাদের অনেকের প্রতি জনমনে প্রশ্ন আছে। এর বাইরেও সরকার এবং রাষ্ট্রের বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে দ্বৈত নাগরিকত্বপূর্ণ এবং তাদের বিদেশে অবস্থান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন আছে। এদের মধ্যে যেমন আছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং দেশের বিনিয়োগ সংক্রান্ত সংস্থার প্রধান, তেমনই আছেন বাংলাদেশের সংবিধান সংস্কার বিষয়ক কমিটির প্রধানও।

দৈনিক ইত্তেফাক - ২৮ মে ২০২৫

দৈনিক বাংলা - ২১ মে ২০২৫

দৈনিক ইত্তেফাক - ২০ মে ২০২৫

১২ মে ২০২৫

ট্রাম্পের আমেরিকা অন্তত ‘গ্রেট’ নয়

ট্রাম্পের আমেরিকার দরজা ধাক্কানোর শব্দটি ঠিক অতিথিসুলভ নয়। এই দরজা ধাক্কার মধ্যে যেন একটা আধিপত্য আছে, ক্ষমতা জাহিরের চেষ্টা আছে- তা সেটি নিজের দেশের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজাই হোক কিংবা ধ্বংসপ্রাপ্ত বিদেশি ইউক্রেন দেশটিই হোক। সর্বত্রই একই সুর- ‘ভদ্রতার সীমারেখা রিভোকড’। হঠাৎই যেন একটা আতঙ্ক কালবৈশাখী মেঘের মতো ছড়িয়ে পড়েছে সারা দুনিয়ার আনাচে-কানাচে। স্বয়ং নিজ দেশ আমেরিকার সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা থেকে শুরু করে আর্থিক বিষয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সারা দুনিয়ায় চলছে ভয়ের মহড়া। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও বেশি আগ্রাসী, আরও অনেক বেশি বেপরোয়া। তার স্লোগান- ‘মেক আমেরিকা, গ্রেট এগেইন’ নিয়ে এগিয়ে যেতে যেতে তিনি যেন সেই আমেরিকাকেই ‘গ্রেট’ স্থান থেকে ছিটকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছেন। অনেকেই এখন ভয় পাচ্ছে তার এ ‘গ্রেট আমেরিকা’ স্লোগানের ধ্বনিতে। তিনি কোন ‘গ্রেট আমেরিকা’-র স্বপ্ন দেখেন? ১৯৩০ সালের নয়তো! ১৯৩০ সালে প্রেসিডেন্ট হার্বার্ট হুবারের শাসনকালে মার্কিন কংগ্রেসে বাণিজ্য সংক্রান্ত একটি আইন পাস হয়েছিল।

দৈনিক ইত্তেফাক - ০৭ মে ২০২৫

২৮ এপ্রিল ২০২৫

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ এবং ইউনেস্কোর স্বীকৃতি

ইউনেস্কো সারা পৃথিবীর সুপ্রাচীন ঐতিহাসিক লেখ্য, দর্শন ও সংস্কৃতির বই, আলোচিত বিষয় ইত্যাদিকে স্বীকৃতি এবং সম্মান জানানোর জন্য ‘মেমরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টার’- এ রেকর্ড করে। জাতিসংঘের এ নথিতে স্থান পায় শুধুমাত্র সেসব বই, বিষয় কিংবা লেখা- যেগুলো বহু প্রজন্ম ধরে সমাজকে প্রভাবিত করে আসছে, যেগুলো আজও কালজীর্ণ হয়ে যায়নি। ইউনেস্কোর এ রেজিস্টারে ১৯৯৫ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়ে সারা পৃথিবীর মোট ৪৯৬টি মেমরি রেকর্ডকৃত ছিল। ২০২৫ সালে ৭৪টি নতুন রেকর্ড এ রেজিস্টারে স্থান পেয়ে আজ পর্যন্ত মোট ৫৭০টি বিষয় বই, লেখ্য সারা পৃথিবীতে ‘মেমরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টার’-এর অংশ হয়ে থাকল। এ রেকর্ডে পৃথিবীর সব দেশের অনেক উল্লেখযোগ্য বিষয় স্থান পেলেও পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের প্রত্যেকের মাত্র একটি করে বিষয় স্থান পেয়েছে। ভারত একদিকে বেশ এগিয়ে আছে এবং রেজিস্টারে ভারতের লিপিবদ্ধ গ্রন্থ ও বিষয়ের সংখ্যা ১৪টি। ২০২৫ সালে ভারতের ‘ভগবদগীতা’ এবং বৈদিক যুগে ভরত মুনির রচিত ‘নাট্যশাস্ত্র’-কে ইউনেস্কোর মেমরি রেজিস্টারে স্থান দেওয়া হয়েছে। ইউনেস্কোর এ সম্মান প্রতিটি ভারতীয়দের জন্য গর্বের বিষয় বৈকি! ইউনেস্কোর এ মর্যাদার সম্মান ভারতের চিরন্তন প্রজ্ঞা ও সুদুরপ্রসারী সংস্কৃতির প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি। গীতা যেমন তৈরি করেছে ভারতের আধ্যাত্মিক জীবন, ভারতীয় সমাজ ও সংস্কৃতি এবং ধর্মীয়চর্চার আবহমান চরিত্র ও মান্যতা- তেমনি ভারতের শিল্পবোধ, রসবোধ এবং অভিনয় ও নৃত্য কৌশলের নানা দিক নিয়েও আছে ভরত মুনির নাট্যশাস্ত্র, যা হাজার বছর পেরিয়ে আজও নৃত্য, সঙ্গীত, অভিনয় এবং শৈল্পিক পরিবেশনার বিচিত্র স্তরকে প্রভাবিত করে।

২৪ এপ্রিল ২০২৫

স্বপ্নের নাম ‘ট্রাম্প গাজা’

একদিন আদিম অরণ্যে কৃষিকাজ শিখে সমাজবদ্ধ হতে শিখেছিল এ পৃথিবীর মানুষ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ঘৃণার চাষ করতে করতে সেই সমাজকেও ছিন্নভিন্ন করতে শিখে গিয়েছে সেই মানুষই। অচেতন মন এবং পাথুরে হৃদয় নিয়ে সেই দৃশ্য অবলোকন করেছে স্বার্থবাদি রাষ্ট্রব্যবস্থা- অমানবিক পৃথিবী। সেই পৃথিবী আজ দেখছে গাজায় অবারিত গণহত্যা। আজ বিধ্বস্ত গাজা, মৃত শিশু, মৃত মহিলা, মৃত বৃদ্ধ, মৃত মানুষ! চারদিকে মৃত মানুষের লাশ! কিন্তু ইসরাইলের গাজার মানুষ মারার, গাজার মানুষকে গৃহহীন করার কোনো কমতি নেই। গাজার মানুষের মৃত্যু, গাজার মানুষের রক্ত দেখছে দুনিয়া। দেখছে সব মুসলিম দুনিয়া, দেখছেন ট্রাম্প রাজা, দেখছে জাতিসংঘ; দেখছে ওআইসি, আরবলীগ। প্রতিবাদ দেশে-দেশে মানুষের, কিন্তু প্রতিবাদ নেই সেই দেশগুলোর সরকার থেকে। একদিকে হামাসের যুদ্ধবাজরা দিব্যি ঢাল বানাচ্ছে শিশুদের-নারীদের; লুকিয়ে থাকছে গর্তে, হাসপাতালে। অন্যদিকে, সেই হামাসের খোঁজার অজুহাতে বোমা ফেলে চলেছে ইসরাইল। হাজারে হাজারে মরছে সাধারণ ফিলিস্তিনিরা, সাধারণ মানুষ, সাধারণ মুসলিম জনগণ।

২১ এপ্রিল ২০২৫

নামে কী এসে যায়

অবারিত গণহত্যায় শান্তি অধরা ফিলিস্তিনে। বিধ্বস্ত গাজা, মৃত শিশু-বৃদ্ধ। এ দৃশ্যে বহু সংবেদনশীল হৃদয়ে ঘা লাগছে, প্রতিবাদও হচ্ছে। বাংলাদেশের লাখো মানুষ দলবেঁধে গাজার অসহায় মানুষের জন্য হাহাকার করছে, বিপন্ন মানুষকে বাঁচানোর জন্য স্লোগান দিচ্ছে। বাংলাদেশের মতো আরও অনেক দেশের মানুষই গাজাবাসীর পাশে দাঁড়াতে রাস্তায় নামছে দলে দলে। কিন্তু ইসরাইল কর্তৃক গাজায় মানুষ মারার, গাজার মানুষকে গৃহহীন করার কোনো কমতি নেই। শিশু-মহিলা-বৃদ্ধ কেউ-ই রেহাই পাচ্ছে না গাজায়- তাদের মৃত্যু, তাদের রক্ত দেখছে দুনিয়া। দেখছে সব মুসলিম দেশগুলো, দেখছে ট্রাম্প রাজা, দেখছে পশ্চিমা দুনিয়া, দেখছে জাতিসংঘ। প্রতিবাদ আছে মানুষের, কিন্তু প্রতিবাদ নেই দেশগুলোর সরকার থেকে। হামাস জঙ্গিরা দিব্যি ঢাল বানাচ্ছে গাজার শিশুদের, লুকিয়ে পড়ছে হাসপাতালে। আর তাদের খোঁজার অজুহাতে বোমা মেরে চলেছে ইসরাইলি বাহিনী। হাজারে হাজারে মরছে উলুখাগড়া। পৃথিবী আজ এমন বাস্তবতায়ই দাঁড়িয়ে আছে। যুদ্ধবাজ চরম দক্ষিণপন্থীদের তাণ্ডবে রক্তে ভিজছে গাজার মাটি; রক্তে ভিজছে সুদান, হাইতি, সিরিয়া, ইউক্রেন, ইয়েমেন- তালিকাটি অনেকটাই লম্বা। অত্যাচারী আর অত্যাচারিতদের মাঝখানে পৃথিবীর সব দেশগুলো চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে; তামাশা দেখছে নিভৃতে- লজ্জার মাথা খেয়ে নিশ্চুপ আছে জাতিসংঘ। একদিন আদিম অরণ্যে কৃষিকাজ শিখে মানুষ এ পৃথিবীতে সমাজবদ্ধ হতে শিখেছিল।

১৭ এপ্রিল ২০২৫

অবারিত গণহত্যা, এত এত রক্ত- তারপরও পৃথিবী নীরব

সব নিয়ে কি রাজনীতি চলে? না, চলে না। পহেলা বৈশাখ নিয়েও রাজনীতি চলে না। এটি বাঙালির জাতীয় উৎসব। আপনি বাঙালি হলে, বছরের শুরুটা আপনাকে মানতেই হবে। আপনি মুসলমান, হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ এমন ধর্মীয় ঠিকানায় আবদ্ধ হয়েও আপনি বাঙালি। মুসলমান বাঙালি হতে পারে, অবাঙালি হতে পারে; হিন্দু বাঙালি হতে পারে, অবাঙালি হতে পারে- কিন্তু বাংলাদেশের বাঙালি হিসেবে আপনি অবশ্যই বাঙালি মুসলমান কিংবা বাঙালি হিন্দু। এটুকুর মধ্যে কোথাও রাজনীতি নেই। বছরের শুরুটা তাই আপনার নববর্ষ, হালখাতার দিন। বাংলা পঞ্জিকা সেভাবেই নির্দেশ দিচ্ছে। জাতীয়তাবাদ বা জাতি পরিচয়ের রাজনীতির দিকে যেতে চাই না; তা নিয়ে অনেকের অনেক কথাই থাকতে পারে। কিন্তু এটুকুতে খাঁদ নেই যে- বাঙালি হিন্দু হোক, মুসলমান হোক, খ্রিস্টান হোক- বাঙালি বাঙালিই। তাই সেই যে গানের সুর- বাংলার হিন্দু, বাংলার খ্রিস্টান, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার মুসলমান- আমরা সবাই বাঙালি। ধর্ম এবং সাংস্কৃতিক প্রশ্নে বাংলাদেশে দ্বিধাবিভক্তি আছে, আত্মপরিচয়ের সংকট আছে- যা রাষ্ট্রসত্ত্বার ভবিষ্যতকে অন্ধকারে আবৃত্ত করে রেখেছে বহুদিন ধরে। কিন্তু সেসব রাজনীতির দিকে আলোকপাত না করে আমরা যদি শুধু বাংলাদেশ, বাঙালি আর তার নববর্ষ বলতে চাই- সেখানে কোনো বিভেদ করার সুযোগ নেই। না, সবাই এভাবে এ সরল নিয়মে ঐকিক অঙ্ক কষতে পারছে না। বিভেদ টানতেই হবে।

১৫ এপ্রিল ২০২৫

অন্তর্বর্তী সরকারের কূটনৈতিক দুর্বলতা

শুরুতে দ্বিধাহীনভাবে স্বীকার করে নিচ্ছি যে, বাংলাদেশের এই ক্রান্তিলগ্নে এমন একজন আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নোবেল বিজয়ীর হাতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব আসাটা আশীর্বাদ হয়েই উঠতে পারত সর্বাঙ্গে, যদি না প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভুল না করে বসতেন। অভ্যন্তরীণ বিষয়ের ভুলে দেশকে মৌলবাদি শক্তির অধীনে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছে এবং আন্তর্জাতিক হিসেবের ভুলে ভারতের সঙ্গে বৈরী কূটনৈতিক সম্পর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক পরিচিতির কারণে প্রথমদিকে সারা বিশ্বের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছিল বাংলাদেশ। বিশেষ করে, আমেরিকার ডেমোক্রেট প্রশাসনের সুবিশেষ নজর কেড়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। জাতিসংঘেরও সুনজর পেতে সাহায্য করেছে ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত পরিচিতির সীমানা। অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুতে ড. ইউনূসের জাতিসংঘের সম্মেলনে যোগদান এবং বহু রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে বৈঠকের ব্যাপারটি বেশ নজরকাড়া বিষয় ছিল। ধারাবাহিকতা বজায়ই ছিল; কেননা, অন্যান্য দেশ মনে করেছিল বাংলাদেশের নেতৃত্ব ড. ইউনূসের মতো একজন আন্তর্জাতিকমানের ব্যক্তির হাতে এসেছে। অর্থাৎ একটি বিশেষ সুযোগের সম্ভাবনা নিয়েই শুরু হয়েছিল ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু নোবেল বিজয় কিংবা বিশ্ব পরিচিতি এবং রাষ্ট্র পরিচালনার কাজটি এক নয়। রাষ্ট্র পরিচালনার কাজে যে দক্ষতা প্রয়োজন তা সম্পূর্ণই রাজনৈতিক; এনজিও কিংবা গবেষণার কাজ দিয়ে তা মজবুত করার সুযোগ নেই। আর সেজন্যই গবেষণা আর এনজিও চরিত্রের অন্তর্বর্তী সরকার বিশ্ব রাজনীতিতে বিশাল সুযোগের হাতছানি নিয়ে এলেও বিশ্ব কূটনৈতিক আসরের সঠিক স্থানটি ধরে রাখতে সক্ষম হয়নি।

ইত্তেফাক - ১১ এপ্রিল ২০২৫

ভোরের কাগজ- ১৬ জানুয়ারি ২০২৫

ইত্তেফাক- ১৫ জানুয়ারি ২০২৫

ভোরের কাগজ- ১০ জানুয়ারি ২০২৫

আমাদের সময়-০৯ জানুয়ারি ২০২৫

যুগান্তর-০৫ জানুয়ারি ২০২৫

ভোরের কাগজ- ০৩ জানুয়ারি ২০২৫

ভোরের কাগজ- ২৬ ডিসেম্বর ২০২৪

ভোরের কাগজ- ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪

ইত্তেফাক - ১১ ডিসেম্বর ২০২৪

ভোরের কাগজ- ০৯ ডিসেম্বর ২০২৪

ভোরের কাগজ- ০৬ ডিসেম্বর ২০২৪

যুগান্তর- ৩০ নভেম্বর ২০২৪

ভোরের কাগজ- ২৯ নভেম্বর ২০২৪

ভোরের কাগজ- ১৭ নভেম্বর ২০২৪

ইত্তেফাক- ১৬ নভেম্বর ২০২৪

যুগান্তর-১১ নভেম্বর ২০২৪

ভোরের কাগজ- ০৭ নভেম্বর ২০২৪

ভোরের কাগজ- ৩১ অক্টোবর ২০২৪ (শেষ পর্ব)

ভোরের কাগজ- ২৭ অক্টোবর ২০২৪ (১ম পর্ব)

ভোরের কাগজ- ২০ অক্টোবর ২০২৪

ভোরের কাগজ- ১৩ অক্টোবর ২০২৪

দৈনিক ইত্তেফাক - ১১ অক্টোবর ২০২৪

সমকাল - ০৭ অক্টোবর ২০২৪

দৈনিক বাংলা- ০৩ অক্টোবর ২০২৪

ভোরের কাগজ- ০৩ অক্টোবর ২০২৪

যুগান্তর- ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪

ভোরের কাগজ- ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪

দৈনিক সমকাল- ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪

ভোরের কাগজ- ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪

ভোরের কাগজ- ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪

দৈনিক বাংলা- ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪

দৈনিক ইত্তেফাক- ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৪

দৈনিক যুগান্তর- ৩১ আগস্ট ২০২৪

ভোরের কাগজ- ২৮ আগস্ট ২০২৪

ভোরের কাগজ- ২২ আগস্ট ২০২৪

দৈনিক বাংলা- ১৩ আগস্ট ২০২৪

ভোরের কাগজ- ০৬ আগস্ট ২০২৪

যুগান্তর- ০৪ আগস্ট ২০২৪

ভোরের কাগজ- ৩১ জুলাই ২০২৪

দৈনিক বাংলা- ২৯ জুলাই ২০২৪

দৈনিক বাংলা- ০৪ জুলাই ২০২৪

ভোরের কাগজ- ৩০ জুন ২০২৪

ভোরের কাগজ- ১৫ জুন ২০২৪

দৈনিক ইত্তেফাক – ০৮ জুন ২০২৪

দৈনিক বাংলা – ০২ জুন ২০২৪

ভোরের কাগজ- ০১ জুন ২০২৪

দৈনিক বাংলা - ১৬ মে ২০২৪

ভোরের কাগজ – ৫ মে ২০২৪

ভোরের কাগজ - ১৯ এপ্রিল ২০২৪

ভোরের কাগজ - ২৫ মার্চ ২০২৪

দৈনিক ইত্তেফাক - ২২ মার্চ ২০২৪

ভোরের কাগজ - ১১ মার্চ ২০২৪

ভোরের কাগজ - ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

ভোরের কাগজ - ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

দৈনিক যুগান্তর - ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

দৈনিক বাংলা - ২৫ জানুয়ারি ২০২৪

যুগান্তর - ২৩ জানুয়ারি ২০২৪

ভোরের কাগজ - ২২ জানুয়ারি ২০২৪

ভোরের কাগজ - ০৫ জানুয়ারি ২০২৪

ভোরের কাগজ - ২০ ডিসেম্বর ২০২৩

ভোরের কাগজ - ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩

দৈনিক বাংলা - ২৪ নভেম্বর ২০২৩

দৈনিক ভোরের কাগজ - ২৪ নভেম্বর ২০২৩

ভোরের কাগজ- ১০ নভেম্বর ২০২৩

দৈনিক বাংলা - ০৮ নভেম্বর ২০২৩

দৈনিক ইত্তেফাক - ২২ অক্টোবর ২০২৩

দৈনিক বাংলা - ২১ অক্টোবর ২০২৩

ভোরের কাগজ - ১৮ অক্টোবর ২০২৩

দৈনিক বাংলা - ০৪ অক্টোবর ২০২৩

যুগান্তর - ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৩

ভোরের কাগজ- ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩

ভোরের কাগজ - ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩

ভোরের কাগজ - ১৪ আগস্ট ২০২৩

আমাদের সময় - ১৪ আগস্ট ২০২৩

ইত্তেফাক - ১১ আগস্ট ২০২৩

সমকাল - ০৯ আগস্ট ২০২৩

আমাদের সময় - ২৮ জুলাই ২০২৩

ভোরের কাগজ - ২৮ জুলাই ২০২৩

ভোরের কাগজ - ১০ জুলাই ২০২৩

যুগান্তর - ০৮ জুলাই ২০২৩

ইত্তেফাক - ০৬ জুলাই ২০২৩

ইত্তেফাক- ১৫ জুন ২০২৩

ভোরের কাগজ - ১১ জুন ২০২৩

ভোরের কাগজ -২২ মে ২০২৩

সমকাল- ২০ মে ২০২৩

যুগান্তর-০৯ মে ২০২৩

ভোরের কাগজ - ০১ মে ২০২৩

ভোরের কাগজ- ১২ এপ্রিল ২০২৩

ভোরের কাগজ- ২১ মার্চ ২০২৩

আমাদের সময় - ১৫ মার্চ ২০২৩

ভোরের কাগজ- ০৬ মার্চ ২০২৩

সমকাল- ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

আমাদের সময় - ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

যুগান্তর- ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

ভোরের কাগজ- ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

সমকাল - ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

আমাদের সময়- ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

ভোরের কাগজ- ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

সমকাল - ২৯ জানুয়ারি ২০২৩

ভোরের কাগজ- ২৭ জানুয়ারি ২০২৩

আমাদের সময়- ১৯ জানুয়ারি ২০২৩

সমকাল - ১৫ জানুয়ারি ২০২৩

ভোরের কাগজ- ১৩ জানুয়ারি ২০২৩

সমকাল- ২৬ ডিসেম্বর ২০২২

ভোরের কাগজ- ২৩ ডিসেম্বর ২০২২

যুগান্তর-১৯ ডিসেম্বর ২০২২

আমাদের সময়- ১৯ ডিসেম্বর ২০২২

ভোরের কাগজ- ১২ ডিসেম্বর ২০২২

সমকাল- ২৩ নভেম্বর ২০২২

ভোরের কাগজ- ২১ নভেম্বর ২০২২

যুগান্তর- ২০ নভেম্বর ২০২২

ভোরের কাগজ- ১২ নভেম্বর ২০২২

আমাদের সময়- ০৮ নভেম্বর ২০২২

সমকাল- ২৮ অক্টোবর ২০২২

ভোরের কাগজ- ২১ অক্টোবর ২০২২

যুগান্তর- ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২

সমকাল- ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

আমাদের সময়- ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

ভোরের কাগজ- ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

সমকাল- ২৯ আগস্ট ২০২২

ভোরের কাগজ- ১৩ আগস্ট ২০২২

সমকাল- ১২ আগষ্ট ২০২২

ভোরের কাগজ- ৩০ জুলাই ২০২২

ভোরের কাগজ- ১৩ আগস্ট ২০২২

সমকাল- ১২ আগষ্ট ২০২২

ভোরের কাগজ- ৩০ জুলাই ২০২২

সমকাল- ২৪ জুলাই ২০২২

যুগান্তর- ২২ জুলাই ২০২২

সমকাল- ২২ জুন ২০২২

সমকাল- ০৫ জুন ২০২২

যুগান্তর-৩০ মে ২০২২

ভোরের কাগজ- ১৮ মে ২০২২

সমকাল- ০৯ মে ২০২২

ভোরের কাগজ- ৩০ এপ্রিল ২০২২

যুগান্তর- ২৮ এপ্রিল ২০২২

আমাদের সময়- ২৫ এপ্রিল ২০২২

ভোরের কাগজ- ১৮ এপ্রিল ২০২২

সমকাল- ০৫ এপ্রিল ২০২২

যুগান্তর-০৫ এপ্রিল ২০২২

আমাদের সময়- ০২ এপ্রিল ২০২২

ভোরের কাগজ- ২৯ মার্চ ২০২২

ভোরের কাগজ- ১৬ মার্চ ২০২২

সমকাল- ০৭ মার্চ ২০২২

ভোরের কাগজ- ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২

আমাদের সময়- ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২২

সমকাল- ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২

আমাদের সময়- ২৮ জানুয়ারি ২০২২

ভোরের কাগজ- ২২ জানুয়ারি ২০২২

যুগান্তর- ১৫ জানুয়ারি ২০২২

সমকাল- ১৫ জানুয়ারি ২০২২

ভোরের কাগজ- ০৮ জানুয়ারি ২০২২

আমাদের সময়- ৩১ ডিসেম্বর ২০২১

ভোরের কাগজ- ২৯ ডিসেম্বর ২০২১

সমকাল- ২২ ডিসেম্বর ২০২১

যুগান্তর- ২৮ নভেম্বর ২০২১

সমকাল- ২২ ডিসেম্বর ২০২১

ভোরের কাগজ- ১১ ডিসেম্বর ২০২১

যুগান্তর- ২৮ নভেম্বর ২০২১

ভোরের কাগজ-২১ নভেম্বর ২০২১

ভোরের কাগজ- ১১ ডিসেম্বর ২০২১

যুগান্তর- ২৮ নভেম্বর ২০২১

ভোরের কাগজ-২১ নভেম্বর ২০২১

আমাদের সময়- ২১ নভেম্বর ২০২১

সমকাল-১৬ নভেম্বর ২০২১

ভোরের কাগজ- ০৭ নভেম্বর ২০২১

সমকাল- ০৩ নভেম্বর ২০২১

যুগান্তর-৩০ অক্টোবর ২০২১

সমকাল-১৪ অক্টোবর ২০২১

ভোরের কাগজ- ০৯ অক্টোবর ২০২১

সমকাল- ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১

যুগান্তর-১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

ভোরের কাগজ- ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১

আমাদের সময়- ১ সেপ্টেম্বর ২০২১

সমকাল - ২৭ আগস্ট ২০২১

ভোরের কাগজ- ২৭ আগস্ট ২০২১

ভোরের কাগজ- ১৪ আগস্ট ২০২১

সমকাল - ৩০ জুলাই ২০২১

ভোরের কাগজ- ৩০ জুলাই ২০২১

ভোরের কাগজ- ১৬ জুলাই ২০২১

সমকাল - ১২ জুলাই ২০২১

যুগান্তর- ২২ জুন ২০২১

সমকাল- ১৭ জুন ২০২১

ভোরের কাগজ - ১৪ জুন ২০২১

যুগান্তর- ১ জুন ২০২১

সমকাল- ৩১ মে ২০২১

ভোরের কাগজ - ২২ মে ২০২১

সমকাল- ১১ মে ২০২১

ভোরের কাগজ- ০৩ মে ২০২১

সমকাল - ২৭ এপ্রিল ২০২১

যুগান্তর- ২৭ এপ্রিল ২০২১

আমাদের সময়- ১৩ এপ্রিল ২০২১

সমকাল - ০৬ এপ্রিল ২০২১

ভোরের কাগজ- ০৫ মে ২০২১

ভোরের কাগজ- ১৬ মার্চ ২০২১

সমকাল - ১১ মার্চ ২০২১

যুগান্তর- ০২ মার্চ ২০২১

সমকাল- ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ভোরের কাগজ - ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১

যুগান্তর- ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১

আমাদের সময়- ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ভোরের কাগজ - ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১

সমকাল- ৩১ জানুয়ারি ২০২১

যুগান্তর- ২৬ জানুয়ারি ২০২১

ভোরের কাগজ - ২৫ জানুয়ারি ২০২১

আমাদের সময়- ২৪ জানুয়ারি ২০২১

যুগান্তর- ১৮ জানুয়ারি ২০২১

সমকাল - ১৪ জানুয়ারি ২০২১

আমাদের সময়- ১১ জানুয়ারি ২০২১

যুগান্তর- ৩১ ডিসেম্বর ২০২০

ভোরের কাগজ - ২৭ ডিসেম্বর ২০২০

সমকাল- ২২ ডিসেম্বর ২০২০

যুগান্তর- ১৮ ডিসেম্বর ২০২০

আমাদের সময় - ১৩ ডিসেম্বর ২০২০

সমকাল- ১১ ডিসেম্বর ২০২০

ভোরের কাগজ- ০৭ ডিসেম্বর ২০২০

সমকাল - ২৩ নভেম্বর ২০২০

আমাদের সময়- ২৩ নভেম্বর ২০২০

যুগান্তর-২২ নভেম্বর ২০২০

ভোরের কাগজ - ২০ নভেম্বর ২০২০

সমকাল- ১১ নভেম্বর ২০২০

ভোরের কাগজ- ১১ নভেম্বর ২০২০

আমাদের সময় - ০৬ নভেম্বর ২০২০

যুগান্তর-০৫ নভেম্বর ২০২০

ভোরের কাগজ- ১৬ অক্টোবর ২০২০

ভোরের কাগজ - ০২ অক্টোবর ২০২০

ভোরের কাগজ- ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

আমাদের সময়- ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

যুগান্তর - ০৫ সেপ্টেম্বত ২০২০

ভোরের কাগজ- ২২ আগষ্ট ২০২০

আমাদের সময়- ১২ আগষ্ট ২০২০

ভোরের কাগজ - ০৫ সেপ্টেম্বত ২০২০

ভোরের কাগজ- ২২ আগষ্ট ২০২০

আমাদের সময়- ১২ আগষ্ট ২০২০

ভোরের কাগজ - ০৮ আগষ্ট ২০২০

ভোরের কাগজ- ২৬ জুলাই ২০২০

যুগান্তর-২৫ জুলাই ২০২০

যুগান্তর - ১৭ জুলাই ২০২০

ভোরের কাগজ- ১৪ জুলাই ২০২০

আমাদের সময়- ১২ জুলাই ২০২০

আমাদের সময় - ০৫ মার্চ ২০২০

যুগান্তর- ০৪ মার্চ ২০২০

ভোরের কাগজ- ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

আমাদের সময় - ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০

আমাদের সময়- ০৪ নভেম্বর ২০১৯

ভোরের কাগজ- ০১ নভেম্বর ২০১৯

ভোরের কাগজ - ১৫ অক্টোবর ২০১৯

আমাদের সময়- ১৩ অক্টোবর ২০১৯

ভোরের কাগজ- ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ভোরের কাগজ - ২৭ আগস্ট ২০১৯

আমাদের সময়- ২৬ আগস্ট ২০১৯

ভোরের কাগজ- ০৬ আগস্ট ২০১৯

আমাদের সময় - ০৮ জুলাই ২০১৯

বাংলাদেশের খবর- ২৮ জুন ২০১৯

ভোরের কাগজ- ২৮ জুন ২০১৯

ভোরের কাগজ- ১৮ জুন ২০১৯

আমাদের সময়- ১৫ জুন ২০১৯

যুগান্তর- ০৯ জুন ২০১৯

ভোরের কাগজ- ১৪ মে ২০১৯

যুগান্তর-১৩ মে ২০১৯

মানব কন্ঠ- ৩০ জুন ২০১৯

ভোরের কাগজ- ৩০ এপ্রিল ২০১৯

আমাদের সময়- ২৭ এপ্রিল ২০১৯

যুগান্তর- ১২ মার্চ ২০১৯

আমাদের সময় -০৪ মার্চ ২০১৯

ভোরের কাগজ- ২ মার্চ ২০১৯

ভোরের কাগজ- ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

আমাদের সময় -০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ভোরের কাগজ- ২৭ জানুয়ারি ২০১৯

ভোরের কাগজ- ২০ জানুয়ারি ২০১৯

আমাদের সময় -০৭ জানুয়ারি ২০১৯

ভোরের কাগজ- ৭ জানুয়ারি ২০১৯

ভোরের কাগজ- ২৯ নভেম্বর ২০১৮

ভোরের কাগজ -২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

আমাদের সময়- ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ভোরের কাগজ- ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ভোরের কাগজ -০৮ জুন ২০১৮

আমাদের সময়- ২৩ মে ২০১৮

ভোরের কাগজ- ২০ মে ২০১৮

ভোরের কাগজ -০৯ এপ্রিল ২০১৮

ভোরের কাগজ- ০১ এপ্রিল ২০১৮

ভোরের কাগজ- ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

ভোরের কাগজ -১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

মানব কন্ঠ- ৩০ জানুয়ারি ২০১৮

মানব কন্ঠ- ২৩ জানুয়ারি ২০১৮

ভোরের কাগজ -১০ অক্টোবর ২০১৭

আমাদের সময়-১২ অক্টোবর ২০১৭

মানব কন্ঠ- ০৬ অক্টোবর ২০১৭

ভোরের কাগজ -২৩ আগস্ট ২০১৭

আমাদের সময়-১৮ আগষ্ট ২০১৭

মানব কন্ঠ- ২৪ আগস্ট ২০১৭

ভোরের কাগজ -০৪ আগস্ট ২০১৭

যুগান্তর-০৩ আগষ্ট ২০১৭

ভোরের কাগজ-২০ মার্চ ২০১৭

ভোরের কাগজ -১৩ মার্চ ২০১৭

ভোরের কাগজ- ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

ভোরের কাগজ-১৯ জানুয়ারি ২০১৭

যুগান্তর -১৪ জানুয়ারি ২০১৭

ভোরের কাগজ- ১৮ ডিসেম্বর ২০১৬

ভোরের কাগজ-৩০ নভেম্বর ২০১৬

আমাদের সময় -০১ ডিসেম্বর ২০১৬

মানব কন্ঠ- ২১ নভেম্বর ২০১৬

আমাদের সময়-১৫ জুলাই ২০১৬

ভোরের কাগজ -২২ জুন ২০১৬

আমাদের সময়- ০২ জুন ২০১৬

মানব কন্ঠ-০৩ মে ২০১৬

যুগান্তর-২৮ এপ্রিল ২০১৬

মানব কন্ঠ- ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬

ভোরের কাগজ-০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬

ভোরের কাগজ-২৭ জানুয়ারি ২০১৬

মানব কন্ঠ- ২৫ জানুয়ারি ২০১৬

ভোরের কাগজ-১১ জানুয়ারি ২০১৬

ভোরের কাগজ-০৪ জানুয়ারি ২০১৬

যুগান্তর-১৭ ডিসেম্বর ২০১৫

যুগান্তর-১৪ নভেম্বর ২০১৫

ভোরের কাগজ-২৫ আগস্ট ২০১৫

যুগান্তর-২১ আগস্ট ২০১৫

ভোরের কাগজ-১৪ জুলাই ২০১৫

যুগান্তর-১৮ জুন ২০১৫

ভোরের কাগজ-২৩ এপ্রিল ২০১৫

যুগান্তর-০৮ এপ্রিল ২০১৫

যুগান্তর-১১ মার্চ ২০১৫

যুগান্তর-০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

যুগান্তর-২৬ জানুয়ারি ২০১৫

যুগান্তর-০৬ ডিসেম্বর ২০১৪

যুগান্তর-১৩ নভেম্বর ২০১৪

যুগান্তর-৩০ আগস্ট ২০১৪

যুগান্তর-০৫ আগস্ট ২০১৪

যুগান্তর-১৪ জুলাই ২০১৪

যুগান্তর-২৭ জুন ২০১৪

যুগান্তর-০৪ জুন ২০১৪

যুগান্তর-১৩ মে ২০১৪

যুগান্তর-১৭ এপ্রিল ২০১৪

যুগান্তর-০৬ মার্চ ২০১৪

যুগান্তর-২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৪

যুগান্তর-১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৪

যুগান্তর-০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৪

যুগান্তর-২২ জানুয়ারি ২০১৪

যুগান্তর- ১১ জানুয়ারি ২০১৪

যুগান্তর- ২৬ ডিসেম্বর ২০১৩

যুগান্তর-২৮ নভেম্বর ২০১৩

যুগান্তর- ০৯ অক্টোবর ২০১৩

যুগান্তর- ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩

যুগান্তর-১৬ জুন ২০১৩

যুগান্তর- ০৪ মে ২০১৩

যুগান্তর- ৩১ জানুয়ারি ২০১৩

যুগান্তর-২০ ডিসেম্বর ২০১২

যুগান্তর- ২১ অক্টোবর ২০১২

যুগান্তর- ১৪ আগস্ট ২০১২